০৩ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে মো. জুয়েল (২৭) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের কোমর মাটির সাথে স্পর্শ করে থাকায় ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা নিয়ে জনমনে রহস্য ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু তাহেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল ঢাকার বিক্রমপুর এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে। তার ৭ বছরের একটি কন্যা ও ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।পরে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকার বিক্রমপুরের জুয়েলের সাথে কমলনগরের আবু তাহেরের মেয়ে সুরমা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করলেও দুই বছর আগে স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে জুয়েল শ্বশুরবাড়িতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। রাতে স্ত্রী ও তার পরিবার ঝামেলা করছে বলে জুয়েল বাবা-মাকে ফোনে জানায়। সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জুয়েলের সারাদিনের আয়ের পুরো টাকা স্ত্রী সুরমা বেগম জোরপূর্বক নিয়ে নিতেন এবং প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। টাকা দিতে দেরি বা কম হলেই চলতো মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
স্থানীয় দোকানদার মো. বেলাল বলেন, "ঘটনার রাতে আনুমানিক ১২টার দিকে জুয়েল আমার দোকানে মোবাইলে রিচার্জ করতে আসেন। তখন তাকে ভীষণ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। সে জানায়, তার জমানো সব টাকা স্ত্রীর কাছে রয়েছে এবং তা নিয়ে স্ত্রী তার সাথে চরম ঝামেলা করছে। ছেলেটি অত্যন্ত ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল।" একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা জোসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "স্ত্রীর যাতনা সহ্য করতে না পেরে আমার ছেলে ঢাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে উঠেছিল। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জুয়েল আমাকে ফোন করে কেঁদে কেঁদে বলে—'মা, বউ ও তার পরিবার আমার ওপর নির্যাতন করছে, তোমার সাথে হয়তো আর কথা হবে না।' আমি সকালে ঢাকা থেকে রওনা হব জানিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই আমার কোল খালি হয়ে গেল।
তিনি এ ঘটনার জন্য নিহতের স্ত্রীকে দায়ী করে তার বিচারের দাবি জানান। তবে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে স্ত্রী সুরমা বেগম দাবি করেন, "রাতে ঘরে এসে জুয়েল মেয়েকে মারধর করে এবং আমাকেও মারার জন্য খুঁজতে থাকে। ভয়ে আমি সন্তানদের নিয়ে পাশে বাবার ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে দেখি সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। সে নিয়মিত নেশা করত।"
এ বিষয়ে কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম জানান, "পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১ সপ্তাহ আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
১ সপ্তাহ আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
২ মাস আগে
৩ মাস আগে
৩ মাস আগে
৩ মাস আগে
৩ মাস আগে
৩ মাস আগে
৪ মাস আগে
৪ মাস আগে
৪ মাস আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে
১ বছর আগে