মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ , (০১:২৭ AM) / ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূযোগ-দূর্ভোগ

ঝুঁকিতে রামগতির বয়াচর ব্রিজ, ধসে পড়ার আশঙ্কা

রামগতি প্রতিনিধি   লক্ষ্মীপুর

২৯ জুলাই ২০২৫


ব্রিজের এবাটমেন্ট অংশের মাটি ও এপ্রোচ অংশের মাটি এভাবে সরে গেছে।
ব্রিজের এবাটমেন্ট অংশের মাটি ও এপ্রোচ অংশের মাটি এভাবে সরে গেছে। | ছবি: নয়া চাঁদ

মেঘনার পানির তোড়ে ও ডুবোচর জেগে স্রোতের পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙছে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনার পাড়। মাটি সরে যাওয়ায় বয়াচর ব্রিজ হুমকিতে রয়েছে। 

নোয়াখালী রামগতির ১০ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ব্রিজটির দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতি বয়ারচর ব্রিজ। উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মেঘনার ওপর দিয়ে রামগতি নোয়াখালী একমাত্র সংযোগ সড়ক এটি।

মেঘনার পানির তোড়ে ও ডুবোচর জেগে স্রোতের পরিবর্তন হওয়ায় ব্রিজের দুই পাশের গাডারের নিচে মাটি সরে গেছে। ডুবোচরের কারণে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এতে ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বাজারের অংশের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ভাঙনের কবলে পড়ে ব্রিজের দক্ষিণ অংশের পাড় প্রায় তিনশ মিটার ভেঙে ভেতরে চলে গেছে। বাকী অংশটুকুও ভাঙনের কবলে। যার কারণে সবেচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ব্রিজটি। 

এছাড়া পিলারের নিচেসহ গাডারের পাশের মাটি সরে গিয়ে অনেকটাই শূন্য হয়ে আছে ব্রিজটি। ফলে ব্রিজের দুই মাথায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে। ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন কিংবা মালবাহী গাড়ি যাতায়াত করলে মারত্বক ঝাঁকুনি দেয়। ব্রিজের ওপর ঢালাই উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এতে সবসময় ব্রিজ ব্যবহার করে ওই সড়কে যাতায়াতে চালক যাত্রীরা আতঙ্কে থাকেন। 

সড়কটিতে প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এখানে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রকে ঘিরে মৎস্য ব্যবসায়ীদের যে ব্যবসা রয়েছে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিজের দুই পাশে বড় গর্ত ও ব্রিজের বুকে ফাটল থাকায় ভারী ট্রাকসহ যানসবাহন চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

স্থানীয়রা বলছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা বেশ কয়েকবার ব্রিজটি পরিদর্শন করে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এই সড়ক দিয়ে দুই জেলার লাখ লাখ মানুষ যাতায়াত করে। ব্রিজ ধসে পড়লে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিলীন হবে স্থানীয় বাজার, বিশাল এলাকা ও মৎস অবতরণ কেন্দ্র। 

দ্রুত ভাঙন রোধে ভুলুয়া নদী খনন, জিওব্যাগ ডাম্পিং ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাজারসহ সড়ক-ব্রিজ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। 

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ডুবোচরের কারণে নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। যার কারণে সড়ক ও বাজারটি ভাঙনের মুখে রয়েছে। এর জন্য ডুবোচরটি অপসারণ করা গেলে নদীর গতিপথ ঠিক হয়ে যাবে। তাহলে বাজার ও সড়কটি রক্ষা পাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবগত করা হবে।