মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ , (০১:২৯ AM) / ৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দূযোগ-দূর্ভোগ

এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে ডুবেছে ১২শ হেক্টর জমির ফসল

স্টাফ রিপোর্টার   লক্ষ্মীপুর

১৬ জুলাই ২০২৫


| ছবি: নয়া চাঁদ

লক্ষ্মীপুরে গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ডুবে যায় কৃষি জমি, ও মাছের ঘের। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধানা ও শাক-সবজির। জেলায় এগারশ হেক্টর জমির আউশ ও ৯৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি পানিতে ডুবে যায়। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় এলাকা সহ সদর উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই শতাধিক পরিবার। উপজেলা ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্তা ও আশপাশের এই পরিবারের সদস্যদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সেখানে বুক সমান পানিতে ডুবে আছে ফসলি জমি। গতবারও একই কারণে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কথা বলছেন স্থানীয় কৃষকরা।স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের পূর্বপাশে খাল রয়েছে। এর বিভিন্ন অংশে চলাচলের জন্য রাস্তা রয়েছে। কয়েকটি সরু কালভার্টের নিচে পানি প্রবাহের জন্য সরু পাইপ রয়েছে। এ ছাড়া মিয়ারবেড়ী, সূতারগোপ্তা বাজারের পূর্বপাশের অধিকাংশ দোকানই খালের ভেতর। একই সঙ্গে এ খালে কচুরিপানাসহ বর্জ্য রয়েছে। এতে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বৃষ্টির পানি জমে খালসহ আশপাশের এলাকা ডুবে গেছে।রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, সূতারগোপ্তার বাজারের আটটি দোকানের তিন ভাগের দুই ভাগই খালের উপরে। বাজার থেকে পূর্বপাশের ব্রিজের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ২৫ ফুট চওড়া একটি খালের ১০ ফুটজুড়ে লম্বায় কয়েকটি জরাজীর্ণ দোকানঘর। খালের উপর দিয়ে চলাচলের জন্য পাঁচ থেকে সাত ফুটের কয়েকটি কালভার্ট করে পথ বানিয়েছে স্থানীয়রা। একই এলাকার গণকবরের সামনে রাস্তায় প্রায় দুই ফুট পানি জমে আছে। আশপাশে যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। ওই এলাকায় ফাইভ স্টার কিন্ডারগার্টেন ডুবে গেছে। এতে গত কয়েকদিন সেখানে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। সামনেই দুটি ঘরে এখন পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা। আশপাশের প্রতিটি গ্রামীণ রাস্তা হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। স্থানীয় কৃষক নাজমুল হক বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে গতবছর তিনবার বীজতলা করেও আবাদ করতে পারিনি। এবারও জমিতে কোমর থেকে বুক পর্যন্ত পানি। খাল-বিল অবৈধ দখলের কারণে এ অবস্থা। পানি না নামলে এবারও আবাদ করা সম্ভব হবে না।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জহির আহমেদ বলেন, ৩৭৫ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এসব বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। চাষাবাদের জন্য পানি কমলে ফের বীজতলা করতে হবে। এক হাজার ১০০ হেক্টর জমির আউশ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। চাষ করা ২০০ হেক্টর জমির শাক-সবজি মধ্যে প্রায় ৯৫ হেক্টর জমি পানিতে ডুবেছে। সূতারগোপ্তা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদ আলম রানা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, “মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। এখানে জোয়ারের পানি প্রবেশের সুযোগ নেই। অসংখ্য অবৈধ দখলদার আছে, প্রয়োজনের তুলনায় ছোট কালভার্ট রয়েছে, খাল দখল করে মানুষ বাড়িঘরে যাওয়ার জন্য কিছু রাস্তা করেছে। এজন্য পানি বের হতে পারছে না। আমরা ওই এলাকা পরিদর্শন করব।