২৬ জুন ২০২৬
যে ঘরে হত্যার শিকারের কিছুক্ষণ আগেও ছিল মা ও মেয়েদের হাসি-কথা, সেই ঘরই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় রক্তাক্ত মৃত্যুকূপে। মেঝে জুড়ে রক্ত, চারদিকে আর্তচিৎকার, স্বজনদের কান্না—এমন এক বিভীষিকাময় দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর। সেখানে নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন বিধাবা শাহিনুর বেগম ও তার তিন কলেজ বিশ্বদ্যিালয় পড়ুযা দুই মেয়ে ও স্কুল পড়ুয়া আরেক মেয়ে। বেঁচে আছে শুধু পরিবারের একমাত্র ছেলে, যার জীবন থেকে একদিনেই হারিয়ে গেছে মা ও তিন বোন।
যে শহরে জীবিকার সন্ধানে এবং দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা খুঁজতে এসেছিলেন, সেই শহরেই রক্তাক্ত হামলায় প্রাণ হারালেন একই পরিবার চারজন! এর আগে এখানেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের কর্ণধার নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন। জীবিকার তাগিদে কুমিল্লা থেকে রায়পুরে এসেছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল, একটু ভালো আয়-রোজগার করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসারটা গুছিয়ে নেবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ২০১৮ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি।
স্বামীকে হারানোর পর চার সন্তানকে নিয়ে ছিল শাহিনুর বেগমের জগত। অভাব-অনটনের মধ্যেও ছিল সন্তানদের ঘিরে তাঁর বেঁচে থাকার স্বপ্ন। স্বামীর মৃত্যুর পরও হাল ছাড়েননি তিনি। চার সন্তানকে নিয়ে রায়পুরেই থেকে যান। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বড় ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত একটি দোকানে চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন। মানুষের সহযোগিতা আর সামান্য আয়েই কোনো রকমে চলছিল তাদের জীবন।
পেটের দায়ে কুমিল্লা থেকে রায়পুরে এসেছিল পরিবারটি। সাত বছর আগে সিফাত হারিয়েছে বাবাকে, আর আজ হারিয়েছে মা ও তিন মেয়েকে। তাদের সেই স্বপ্ন এক দুপুরে রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেল।
রায়পুরের একটি ভাড়া বাসায় ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলায় থেমে গেছে সেই সংগ্রামের গল্প। শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মৃত্যুতে মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে পরিবারটি। এখন নিঃসঙ্গ জীবন নিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি একমাত্র ছেলে।
এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি- পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ঘটনার মূল রহস্য বের করার চেষ্টা করছে।
২ দিন আগে
৪ দিন আগে
৩ সপ্তাহ আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
৯ মাস আগে
২ দিন আগে
৪ দিন আগে
৩ সপ্তাহ আগে
১ মাস আগে
১ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে