বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ , (১১:৫৩ PM) / ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপরাধ

রায়পুরে মা ও তিন মেয়ে সহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা

রায়পুর প্রতিনিধি   লক্ষ্মীপুর

২৫ জুন ২০২৬


হাসপাতালে নিহতদের মরদেহ
হাসপাতালে নিহতদের মরদেহ | ছবি: নয়া চাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি বাসা বাড়ীতে মা ও দুই মেয়ে সহ একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে অন্তর মজুমদার নামে ভাসমান এক ফল ব্যবসায়ী। এসময় গলা কাটা অবস্থায় আরেকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পৌর শহরের মধ্যবাজার গোডাউনের পেছনে নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  এসময় স্থানীয়দের গনপিটুনিতে মারা যায় ওই ঘাতক। নিহত ঘাতকের নাম অন্তর মজমুদার সে নোয়াখালী সুবর্নচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে বলে জানাগেছে। একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মোল্লারহাট এলাকার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত হাঁড়ি বিক্রেতা কামালের পরিবারের সদস্যরা নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে স্থানীয়রা ঘরের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পেয়ে এগিয়ে যান। পরে তারা ঘরের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের চার সদস্যকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এ সময় অভিযুক্ত এক ভাসমান ফল বিক্রেতা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে জনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মৃত্যুবরণ করেন। অপর জনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্তকে মারাত্মক জখম অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পথে সে মারা যায়।

নিহতরা হলেন, মা শাহিনুর বেগম (৪০), এবং দুই মেয়ে শিফা (১২) ও ইকরা (০৮)। বড় মেয়ে ছায়মা (১৮) কে মূমুর্ষ অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।  নিহত শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানাধীন লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে পুলিশি তদন্ত চলছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমি।