বুধবার ৩ জুন ২০২৬ , (১১:২৬ PM) / ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপরাধ

রামগতিতে শিশু ধর্ষনের অভিযোগে বিএনপি নেতার শাস্তি এক চড় ও ক্ষমা প্রার্থনা

রামগতি প্রতিনিধি   লক্ষ্মীপুর

০৩ জুন ২০২৬


শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল
শিশু ধর্ষণের অভিযুক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল | ছবি: নয়া চাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ধর্ষনের ঘটনায় পৌর বিএনপির সেক্রেটারির নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকে ধর্ষক রুবেলকে একটি চড় দিয়ে ভিকটিমের বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার শর্তে অভিযোগ থেকে মুক্তিদান এবং ভিকটিমের পরিবারকে থানায় দাযেরকৃত মামলাটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হযেছে।

ঘটনাসূত্রে জানাগেছে, উপজেলা রামগতি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলাল তার প্রতিবেশী একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ রুবেলের সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে বাদাম খাওযানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি ঘটে গত গত ১৭ মে। খবর পেয়ে শিশুর বাবা কক্সবাজার থেকে ছুটে এসে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য স্থানীয় পৌর শ্রমিকদল সভাপতি মোঃ মাহফুজসহ কয়েকজনকে জানায়। তারা বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকলে শিশুটির পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভিকটিমের জবানবন্দি শুনে তার পরিবারকে থানায় মামলা দায়েরের জন্য বলেন। পরবর্তীতে তারা রামগতি থানা মামলা রজ্জু করেন। মামলার পরবর্তীতে রামগতির থানার ইনচার্জ লিটন দেওয়ান ভিকটিমের জবানবন্দি নেয় এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রমে সক্রিয়তা দেখালেও পরবর্তীতে থানা পুলিশ হঠাৎ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান ঘটনার বিস্তারিত শুনে বিচারের আশ্বাস দেন। গত ৩১ মে পৌর বিএনপির সেক্রেটারি মুর্তজা আল আমিন-এর নেতৃত্বে আকস্মিক এক সালিশ বৈঠকে বসে। এতে ভিকটিমের পরিবারকে ডেকে আনা হয়। ওই সালিশি বৈঠকে মোঃ বেলালের বর্তমান ঘটনা ছাড়াও পূর্বের কৃতকর্মের বর্ণনা উঠে আসে। জানাযায়, ইতোপূর্বেও সে নিজের পুত্রবধূকে ধর্ষন ও ভাইয়ের বৌকে ধর্ষন চেষ্টা করেছিল।

সালিশে উপস্থিত বিএনপি নেতা মোঃ মাহফুজ, মোঃ শাহজাহান, সুমন, রাকিব ও প্রিন্সসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ভিকটিমের বাবার সামনে ধর্ষককে বিএনপি নেতা মুর্তজা আল আমিন ভর্ৎসনা করেন ও পিঠে ১টি থাপ্পর দেন। এ ঘটনার সালিশে শাস্তিস্বরূপ ১০টি বেত্রাঘাত ধার্য করা হয় এবং পরবর্তীতে ধর্ষকের স্বজনদের অনুরোধে বেত্রাঘাত না দিয়ে শুধু ক্ষমা চাওয়ার শর্তে সালিশ সমাপ্ত করা হয়। এ সময় বলা হয়, "শাস্তির কথা বলা আর শাস্তি দেওয়া একই কথা।" এ সময় তিনি ভিকটিমের পরিবারকে থানা থেকে মামলা তুলে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

ভিকটিমের পরিবার পূর্ব থেকে এ সালিশ বৈঠক সম্পর্কে কিছুই জানতা বলে সালিশি বৈঠকে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এবং বৈঠক শেষে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার নানাবিধ চাপে ভিকটিমের পরিবার ঘটনার পর থেকে বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানাযায়। তবে সালিশ বৈঠকের বিষযটি জানা নেই বলে রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি লিটন দেওয়ান জানান, আসামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।