বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ , (১১:৩৯ PM) / ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপরাধ

রামগঞ্জে আইফোন চুরির অপবাদে আবাসিক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

রামগঞ্জ প্রতিনিধি   লক্ষ্মীপুর

১৮ জুন ২০২৬


নিহত মেহেদি
নিহত মেহেদি | ছবি: নয়া চাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লাশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান ওই প্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায় অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী।

খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রতিষ্ঠানটি ৭ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

গতকাল বুধবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে জানযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, রোববার কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে যায়। ৪১৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসান ফোনটি চুরি করেছে বলে অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর দুই দিন পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোন হারানো ওই ছাত্রসহ ৯ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী মেহেদীকে ৪১৫ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাকে নির্মমভাবে মারধর করে তারা। এতে একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আড়াল করতে অভিযুক্ত ছাত্ররা মেহেদীর গলায় মাফলার প্যাঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ ওই শিক্ষেকের।

মেহেদীর মা অভিযোগ করে বলেন, ওই দিন বিকালে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন করে জানায়, আমার ছেলে অসুস্থ। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত স্কুলে যাই। কিন্তু গিয়ে শুনি, ছেলে আর বেঁচে নেই।

রামগঞ্জ থানার ওসি মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানিয়েছে, মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়। তবে শুধু মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদের আটকের চেষ্টা চলছে।