০৬ আগস্ট ২০২৫
জুলাই গনঅভ্যুত্থানে লক্ষ্মীপুরে চার শিক্ষার্থী নিহত এবং ২৫০ গুলিববিদ্ধসহ চার শতাধিক জনতা আহত হয়। এই ঘটনায় মামলা করে নিহত ও আহতদের স্বজনরা হুমকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
৪ আগষ্ট ২০২৪ সালে শহরের বাগবাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্র জনতা মুখোমুখি অবস্থান নেয়।
এই সময় টিপুর গুলিতে নিহত হয় কলেজ ছাত্র আফনান। দিনব্যাপী ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া আওয়ামী লীগের হামলায় কলেজ ছাত্র কাউছার হোসেন বিজয়, ওসমান গনি ও সাব্বির হোসেন নিহত হয়। এসময় আহত হয় চার শতাধিক ছাত্র জনতা। এদের অধিকাংশ ছিল গুলিবিদ্ধ।
সাদ আল আফনান হত্যার ঘটনায় তার মা নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে, টিপু ও মাসুম ভূইয়াসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ আরও ৬০০জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ৪৬ জনকে। এর মধ্যে ৩০ জনকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার ভিডিও দেখে আরও ১০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়।
অপরদিকে সাব্বির হোসেন হত্যার ঘটনায় পৃথক আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৯১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ৮৩ জনকে। এছাড়াও ৭৫ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। আরও সনাক্ত করা হয় ১০২ জনকে।
গুলিবিদ্ধ আহত আবদুল মতিন আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি গোলাম ফারুক পিংকুসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এই মামলায় ২২ জন গ্রেপ্তার হয়।
এছাড়া, গুলিবিদ্ধ আল সবুজ আরও একটি মামলা করেন। সবুজের মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ ১৬২ জন ও অজ্ঞাত ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপর পুলিশের পক্ষ থেকেও আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ইউনিটের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ ১৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত সাদ আল আফনানের মা নাছিমা আক্তার বলেন, ছেলে হারিয়েছি। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন চাপে নিজের ঘরে ঘুমাতে পারছি না। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, বিচার চাই।
নিহত বিজয়ের বাবা ইসমাইল হোসেন ও নিহত সাব্বিরের বাবা আমির হোসেন দুঃখ করে বলেন, দেশের জন্য ছেলেরা জীবন দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছি না। মামলা করায় বিভিন্ন রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত খুনিদের বিচার চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মোবারক হোসেন ও ফজলুল করিম বলেন, ইতোমধ্যে ৪ আগষ্টের দায়ের করা মামলায় প্রায় ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ১২০ জনকে রিমান্ডে আনা হয়।
পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে প্রকাশ্যে জড়িত থাকার ভিডিও দেখে আরো ১১৩ জনকে সনাক্ত করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত আলামত ফরেনসিক রির্পোটে সত্যতা মিলেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারীরা কেউ ছাড় পাবে না। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রতিদিনই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনে চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব মামলা প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
৫ ঘন্টা আগে
২ দিন আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
৫ ঘন্টা আগে
২ দিন আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
২ সপ্তাহ আগে
৬ মাস আগে
৮ মাস আগে
৮ মাস আগে
৮ মাস আগে
৮ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
৯ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১০ মাস আগে
১১ মাস আগে
১১ মাস আগে