শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬ , (১১:২০ PM) / ২২ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন আদালত

শিশুকে আগুনে পুড়ে হত্যার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার   লক্ষ্মীপুর

০৬ নভেম্বর ২০২৬


| ছবি: 

লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়িয়ে গুরুতর আহত করার ১৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল নামে এক শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাহিদ (২১) ও তার বাবা রায়হানকে (৪৫) আসামি করে দুইজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

‎রবিবার (১১অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড হাসপাতাল রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।‎অভিযোগ ও স্বজনরা জানান, গত ১১ অক্টোবর সকালে হত্যার উদ্দেশ্যে রাসেলকে আগুনে পুড়িয়ে গুরুতর জখম করে তাহিদ ও তার বাবা রায়হান। পরে পরিবারের সদস্যরা রাসেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাসেলকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। ১২ অক্টোবর তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময়ে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাসেলের মৃত্যু হয়।

‎পরে শাহবাগ থানা-পুলিশ তার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে ৩১ অক্টোবর শনিবার রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের ছিলাদী পশ্চিম মিঝি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে রাসেলকে দাফন করা হয়। শিশুসন্তান রাইসের মৃত্যুর ঘটনায় তার দিনমজুর বাবা স্ট্রোক করে।

‎এর আগে গত ২৯ অক্টোবর রাসেলের বাবা লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় তাহিদ (২১) ও তার বাবা রায়হানকে (৪৫) আসামি করা হয়। রাসেলের মৃত্যুর পর মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তরের আবেদন করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

‎শিশু রাসেলের বাবা হারুন বলেন, তাহিদ ও তার বাবা রায়হান আমার মেয়েকে নিয়মিত হয়রানি করে আসছিল। আমার ছেলে তার বোনকে পাহারা দিত। এনিয়ে তারা বাবা ছেলে আমার ছেলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল। সেদিন সকালে মাদ্রাসা যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে আমার ছেলে রাসেলকে প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায় তাহিদ। পরে তারা বাবা ছেলে মিলে পলিথিনে পেট্রোল দিয়ে আগুন দিয়ে আমার ছেলেকে পুড়িয়ে ফেলে। আমি গরিব, চিকিৎসা করাতে পারিনি ছেলেকে, অনেক কষ্টে ঢাকায় নিয়ে যাই, পরে আমার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়, আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। সে মৃত্যুর আগে তাহিদ ও তার বাবা রায়হান তাকে আগুন দিয়েছে বলে গেছে। যা আমাদের কাছে রেকর্ড করা আছে। আদালতে আমরা তা উপস্থাপন করেছি। আমি এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

‎‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রায়হানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
‎লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওয়াহেদ পারবেজ বলেন, এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টে মামলা করা হয়েছে৷ কোর্ট সদর থানাকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।