গণশুনাতি (নিচে) ডিসি পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ (উপরে) অংশগ্রহনকারী ব্যক্তিবর্গ। | ছবি: নয়া চাঁদ
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাধীন নয়টি ইউনিয়নের নিয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানাকে উপজেলা গঠনের প্রস্তবনাকল্পে স্থানীয়দের মতামত গ্রহণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই ) দুপুর সদরের বটতলী বাজার উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে বটতলিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আকতার হোসেন, স্থানী সরকার উপ-পরিচালক মোঃ জসীম উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা, সদর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মোন্নাফ, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অভি দাস সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। গণশুনানীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ জেলা প্রশাসকের নিকট ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যার ঘনত্ব, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মধ্যবর্তী স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা পরিষদ নির্মানের প্রস্তাবনা উপজেলার অধীনে রয়েছে চন্দ্রগঞ্জ, হাজীরপাড়া, উত্তরজয়পুর, বশিকপুর, দত্তপাড়া, মান্দারী, দিঘলী, চরশাহী ও কুশাখালী ইউনিয়ন।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গে মতামত সরকারকে জানানো হবে বলে ব্যক্ত করে গণশুনানীর প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা হবে। এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়রা।
<p>রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ লক্ষ্মীপুরের সেই ক্যানসার রোগী মো. পারভেজ (৪৭) আর নেই। নিখোঁজের ১১ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।</p>
<p>বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের হুইপ লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজান তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে পারভেজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। পারভেজের মামা শহীদুল্লাহ আহমদও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।</p>
<p>পারভেজ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে। পেশায় কৃষক পারভেজ দলীয়ভাবে চরকাদিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং মাত্র তিন মাসের একটি কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।</p>
<p>পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন পারভেজকে মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২০ জুন তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। ওই দিন হাসপাতালের নিচে পারভেজকে বসিয়ে রেখে প্রয়োজনীয় ফাইল নিয়ে ওপরের তলায় যান তার মামা শহীদুল্লাহ আহমদ। ফিরে এসে তিনি পারভেজকে আর খুঁজে পাননি। গলায় ক্যানসার থাকার কারণে পারভেজ কথা বলতে পারতেন না। হাসপাতালে দীর্ঘ পাঁচ দিন অপেক্ষা ও খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না মেলায়, গত ২১ জুন বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।</p>
<p>হুইপের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারভেজের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়া এবং চরম অর্থাভাবের বিষয়টি জানতে পেরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেন। তিনি হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পারভেজের ভর্তি ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসাসেবা সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য নিজের একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি।</p>
<p>স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, যেদিন পারভেজকে কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা ছিল, সম্ভবত ক্যানসারের তীব্র যন্ত্রণা অথবা কেমোথেরাপির কষ্টের ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।</p>
<p>পারভেজের প্রতিবেশী ও লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের আইনজীবী রিদোয়ান হোসেন ফয়সাল জানান, রাজধানীর আফতাবনগর গেটের সামনে পারভেজকে অচেতন বা মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ জরুরি বিভাগে রাখে। ক্যানসারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিছু খেতে ও কথা বলতে পারছিলেন না।</p>
<p>হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান এই মর্মান্তিক খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে হুইপের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পারভেজের মরদেহ কমলনগরের চরবসু গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আজ রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হিন্দু যুবক অন্তর মজুমদারের হাতে মা ও তিন মেয়ে সহ একই পরিবারের চারজনের খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বেঁচে যাওয়া পরিবারের একমাত্র সদস্য কিশোর সিফাত বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিন মিয়া। </p>
<p>এদিকে শুক্রবার দুপুরে নিহতদের ময়না তদন্ত শেষে উপজেলার মধ্যবাজার এলাকা ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় জানাযা শেষে নিজ বাড়ী কুমিল্লার হোমনায় তাদের দাফন করার কথা রয়েছে। ঘাতক অন্তর মজুমদারকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে স্থানীয় প্রশাসন।</p>
<p>এর আগে গতকাল উপজেলার পৌর শহরের মধ্যবাজার গোডাউনের পেছনে নদীর পাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় হিন্দু যুবক অন্তর মজুমদারের হাতে খুন হন তারা।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাসা শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে (১৪) হত্যা মামলায় ছাত্র ও শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।</p>
<p>সোমবার (২২ জুন) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি পুলিশ।</p>
<p>অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।</p>
<p>পুলিশ জানায়, ১৬ জুন বিকেলে ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওইদিন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর চালায়। নিহত মেহেদি রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে। ১৮ জুন নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদি হয়ে রামগঞ্জ থানায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান ও ৭ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে একটি আইফোন চুরিকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় মেহেদির মৃত্যু হয়েছে।</p>
<p>এদিকে ঘটনার পর অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানের অপসারণ করে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শরীফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেফতারর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একাডেমির শিক্ষক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ। গতকাল বিকেলে উপজেলা শহরের চৌরাস্তা এলাকায় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে তারা। এসময় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নিহত শিক্ষার্থীর সহপাঠি ও স্বজনরা। সড়ক অবরোধের কারণে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। </p>
<p>খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সুষ্ঠু বিচার ও আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাসে অবরোধ ছেড়ে দেয়া হয়।েএর গত মঙ্গলবার বিকালে ওই বিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদী হাসানকে আই ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা। তার পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওইদিন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়।</p>
<p>ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নান ও সাত শিক্ষার্থীর নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।</p>
<p>লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তা বাজার এলাকায় ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৪টি অবৈধ মাটিবাহী ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে।</p>
<p>শুক্রবার (১৯ জুন) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন লক্ষ্মীপুর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ এস এম কামরুল হাসান। অভিযানের সময় সড়কে অনুমোদনহীনভাবে চলাচল ও মাটি পরিবহনের অভিযোগে ট্রাক্টরগুলো আটক করা হয়।</p>
<p>ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি, যানজট সৃষ্টি এবং সড়কের ক্ষতি হওয়ায় নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।</p>
<p>অভিযান চলাকালে চালক ও মালিকদের সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।</p>
<p>স্থানীয়রা সড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত ব্যক্তির বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা বাদি নিহত মেহেদির বাবা জিয়া উদ্দিন।</p>
<blockquote>
<p><strong>মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে মেহেদী হাসানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। </strong></p>
</blockquote>
<p>এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল বুধবার বিকেলে মেহেদীর মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান থানার সামনে নিয়ে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে মেহেদীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একই দিন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিবৃতি দেয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নান। বিবৃতিতে মেহেদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়।</p>
<p>এ ঘটনায় দুপুরে বিচারের দাবিতে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পরে শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।</p>
<p>রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।</p>
<p>লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আবদুল মজিদ নামে এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একটি সচল জামে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরবর্তী বাতিরখাল মাছঘাট জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। </p>
<p>মসজিদ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।</p>
<p>অভিযুক্ত আবদুল মজিদ চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের ৭নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও একই ইউনিয়নের বিএনপির সহ-সভাপতি এবং বাতিরখাল ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।</p>
<p>শনিবার (৬ জুন) বিকালে মসজিদ ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে আবদুল মজিদ বলেন, মাছঘাট স্থানান্তর হওয়ায় মসজিদটিও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।</p>
<p>স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে মাছঘাট ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মসজিদটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডে মেঘনা নদীর তীরে স্থায়ীভাবে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সরকারি বরাদ্দের অর্থে মসজিদের ভিটি পাকাকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজও সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাতিরখাল মাছঘাটের শত শত জেলে, আড়তদার, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মুসল্লিরা সেখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। কয়েক বছর ধরে জুমার নামাজও নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।</p>
<p>খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের জিএসআইডি নামক একটি প্রকল্পের আওতায় কমলনগর এলজিইডি অফিস মসজিদটির উন্নয়নের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই অর্থে ঠিকাদার হারুনুর রশিদ ডিলার মসজিদের ভিটি পাকাকরণসহ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেন। </p>
<p>এছাড়া সম্প্রতি মসজিদটির উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান আরও ৩ লাখ টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেন। কিন্তু নতুন বরাদ্দের কাজ শুরুর আগেই মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।</p>
<p>অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।</p>
<p>অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু টিনের চালা নয়, পুরো মসজিদটিই ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের ভিটিটি অক্ষত থাকলে মুসল্লিরা সেখানে নামাজ আদায় অব্যাহত রাখতে পারতেন এবং নিজেদের উদ্যোগে নতুন করে ছাউনি নির্মাণ করতে পারতেন। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে।</p>
<p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবদুল মজিদ বলেন, ঘাট স্থানান্তরের কারণে মসজিদের টিনের চালা খুলে নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমামের বেতন ঘাট ব্যবসায়ীরা বহন করতেন এবং ঘাটের স্বার্থেই মসজিদটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।</p>
<p>এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।</p>
<h3>লক্ষ্মীপুরে একটি দেশীয় পাইপগান (এলজি), দুই রাউন্ড কার্তুজ, গাঁজা ও ইয়াবা বড়িসহ শাখাওয়াত ও রঞ্জু নামের দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার গঙ্গাপুর এলাকায় রঞ্জুর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।</h3>
<p>আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- সদর উপজেলার গঙ্গাপুর এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু এবং তার সহযোগী শাখাওয়াত। পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়া দুজনই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।</p>
<p>স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শাখাওয়াত ও রঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে তাঁদের বারবার নিষেধ করার পরেও তারা তাদের এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যান।</p>
<p>এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে স্থানীয় যুবদল নেতা ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল স্থানীয় তরুণ ও জনতা মাদক কারবারি রঞ্জুর বাড়ি ঘেরাও করেন। সেখান থেকে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ রঞ্জু ও শাখাওয়াতকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং জনতা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ, ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।</p>
<p>লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ঝলক মোহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে স্থানীয় জনতা আটকে রেখেছে, এমন খবর পেয়ে সদর থানার একটি টহল দল দ্রুত গঙ্গাপুর এলাকায় পৌঁছায়। পরে স্থানীয় জনতা তাঁদের অস্ত্র ও মাদকসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।'</p>
<p>তিনি আরও জানান, আটক শাখাওয়াত ও রঞ্জু এলাকার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছিল। রাতে জনতা কর্তৃক ধৃত হওয়ার পর তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক জব্দের তালিকায় তুলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।</p>
<p>লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে খসড়া ভোটার তালিকার রেজুলেশন তৈরিসহ বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে।</p>
<p>এদিকে এসব ঘটনায় তাকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক লিটন জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মতিলাল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে।</p>
<p>জানা গেছে, লিটন চন্দ্র দেবনাথ লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক ছিলেন৷ পরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি সভাপতি মতিউল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে বিদ্যলয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সংক্রান্ত রেজুলেশন বই, খসড়া ভোটার তালিকা ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য যান৷ বিষয়টি সভাপতি জানতে পেরে স্বাক্ষর নিয়ে চ্যালেঞ্জ করে। এসময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাক্ষর যাচাই করে প্রতারণার সত্যতা পান। এছাড়া ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে এনটিআরসিএ এর নিয়োগপত্র, যোগানদারের দরখাস্ত ও রেজুলেশন তৈরি করে। পরে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে সভাপতি লিখিত অভিযোগ দিলে স্বাক্ষর জাল করার সত্যতা পায়। এছাড়া ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর এনটিআরসিএ এর শিক্ষক নিয়োগে সুব্রত মন্ডল, শাখায়েত করিম ও মোহাম্মদ জামিল হাসানের নিয়োগের সুপারিশে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে জেলা এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস কুমিল্লাতে প্রেরণ করে। সভাপতির স্বাক্ষর জাল প্রমানিত হওয়ায় জেলা শিক্ষা অফিসার এমপিও কাগজপত্র স্থগিত করে। এদিকে বিভিন্ন সময়ে রেজুলেশনের বইয়েও সভাপতির স্বাক্ষর জাল করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।</p>
<p>বিভিন্ন সময়ে স্বাক্ষর জাল করে এসব অনিয়ম ও প্রতারণায় আশ্রয় নেওয়ায় অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে বিদ্যালয়ের সভাপতি। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুর সিআইডিকে। সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।</p>
<p><span dir="auto">লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি মোটরসাইকেল এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩৬ হাজার ৩০০ টাকাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।</span></p>
<p><span dir="auto">শনিবার (২৩ মে) রায়পুর থানার আওতাধীন ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝিগো বাড়ি এলাকার একটি পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. জসিম উদ্দিন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এসআই মহিউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।</span></p>
<p><span dir="auto">পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখে থামানোর চেষ্টা করা হয়। এসময় একজন ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেলেও বাকি ৩ জনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।</span></p>
<p><span dir="auto">পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে আটককৃতদের কাছ থেকে ৫৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি মোটরসাইকেল এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩৬ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করেছে পুলিশ।</span></p>
<p><span dir="auto">গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে রায়পুর থানা পুলিশ।</span></p>
<p><span dir="auto">পুলিশ আরও জানায়, মাদক নির্মূলে রায়পুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।</span></p>
<p><strong>লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবৈধভাবে কৃষি জমির উর্বর মাটি কাটার অপরাধে জসিম উদ্দিন ও মোক্তার হোসেন নামে দুই ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। এরমধ্যে জসিমকে ১ লাখ টাকা ও মোক্তারকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।</strong></p>
<p>গত বুধবার (২০ মে) রাত ৯টার দিকে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বিকেলে উপজেলার চরবাদাম ও চরআলগীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। দণ্ডপ্রাপ্তরা সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা।</p>
<p>উপজেলা প্রশাসন জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তরা চরবাদাম ও চরআলগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জসিম ও মোক্তারকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। কৃষি জমির উর্বর মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।</p>
লক্ষ্মীপুরে জামায়াত নেতা কাউছার আহম্মদ মিলন হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নাম্বার আসামি মো. জহিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার ১০ জুলাই সকালে র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মিঠুন কুমার কুণ্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৯ জুলাই বুধবার দুপুরে তাকে ঢাকার লালবাগ থানার বিজিবি মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জহির লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার মনসুর আহমেদের ছেলে ও বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহত কাউছারদের বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ৫ জুন দুপুরে রাজিবপুর এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাউসারের ভাই আফতাব হোসেন আরজুর ওপর হামলা করে। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়। ঘটনাটি দেখে কাউছার তার ভাইকে বাঁচাতে যায়। তখন তার মাথার পেছনে লোহার রড দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয়।
এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের সামনে তাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এতে ভয়ে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। পরে সন্ধ্যায় কাউছারের অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ৮ জুন নিহতের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
র্যাব-১১ নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, জহির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন কাউছার হত্যা মামলায় ৮ নাম্বার এজাহারভুক্ত আসামি বাবুলকে (৫০) গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহত কাউসার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের ওলামা বিভাগের সভাপতি ছিলেন।
স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুরে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যা মামলা ও ফাঁসির রায় প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) সকালে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের মোল্লার হাট বাজারে ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান লিটন, দত্তপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম চৌধুরী, ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা সোলাইমান ও চন্দ্রগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু।
এসময় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসা ও অভ্যন্তরীন কোন্দলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান জসিমকে গুলি করে হত্যা করে দূর্বত্তরা। এরপর প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে এলাকার নিরপরাধী লোকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মিথ্যা মামলায় ২০২৩ সালের ২৯ মে ৮জন আসামীকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এসময় দন্ডপ্রাপ্তদের নির্দোষ দাবি করে ফাঁসির রায় প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি জানান বক্তারা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ৫০ বছর বয়সী আলী হোসেন বাচ্চু, ৭৭ বছর বয়সী মোস্তফা, ৬৪ বছর বয়সী খোকন, ৭২ বছর বয়সী আবুল হোসেন, ৬৭ বছর বয়সী মোবারক উল্যা, ২৫ বছর বয়সী কবির হোসেন রিপন, ৬৭ বছর বয়সী জাফর আহম্মদ ও ৫০ বছর বয়সী হিজবুর রহমান স্বপন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চন্দ্রগঞ্জ কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান জসিমকে গুলি করে হত্যা করে দূর্বত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন জসিমের বাবা মফিজ বাদী হয়ে সদর থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।