বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ , (১১:৫৪ PM) / ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসন

রায়পুরে বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে এসিল্যান্ডের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ

রায়পুর প্রতিনিধি   লক্ষ্মীপুর

২৫ জুন ২০২৬


রায়পুর ভূমি কার্যালয়
রায়পুর ভূমি কার্যালয় | ছবি: নয়া চাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীসহ তার আইনজীবীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ভুক্তভোগী বিচার প্রার্থী আবু নেওয়াজ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রায়পুরের দেনায়েতপুর মৌজায় কানিজ ফাতেমা নামে এক নারীর নামে জমির নামজারী জমা খারিজ খতিয়ান করা হয়। এর বিরুদ্ধে জমি বিক্রেতা আবুল কাশেম দেওয়ান খতিয়ানের বিরুদ্ধে আপত্তি দরখাস্ত দেয়। এতে এসিল্যান্ড শুনানির জন্য নোটিশ প্রদান করেন। এ ঘটনায় ফাতেমার পক্ষে তার ভাগিনা আবু নেওয়াজ লিখিত জবাব দিলেও এসিল্যান্ড তা গ্রহণ করেননি। এরমধ্যে প্রতিপক্ষের (ফাতেমা) সঙ্গে যোগাযোগ করা ছাড়াই কাশেমের আপত্তির ভিত্তিতে সার্ভেয়ার ও তহশিলদার এসিল্যান্ডের কাছে একপেশে প্রতিবেদন দাখিল করে।

এতে উল্লেখ করা হয় ফাতেমা জমি দখলে নেই এবং আদালতের মামলা থাকলেও তা নামজারির সময় গোপন রেখেছেন। তবে আদালত থেকে সার্চিং গ্রহণ করেই সকল কাগজপত্র জমা দিলে এসিল্যান্ড অফিস ফাতেমার নামে জমির নামজারি জমাখারিজ খতিয়ান করে দেয়। এসব নিয়ে শুনানির সময় আইনি যুক্তি উপস্থাপন করায় এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হয়ে নেওয়াজ ও তার আইনজীবীকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলে।

ভুক্তভোগী আবু নেওয়াজ বলেন, জমির নামজারির সমস্যা নিয়ে শুনানিকালে এসিল্যান্ড আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আমি ও আমার আইনজীবী সফিউল আলম মান্নানকে ধমক দিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। তিনি আমাদেরকে অপমান করেছেন। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আইনজীবী সফিউল আলম মান্নান বলেন, সার্ভেয়ার ও তহশিলদারের একপেশে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসিল্যান্ড আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এতে আমরা মর্মাহত। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি জেলা প্রশাসক সঠিক ব্যবস্থা নেবেন।

রায়পুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে একজন আইনজীবী এসেছিলন, তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন। পরে তাকে বলেছি যদি সঠিকভাবে আচরণ করতে পারেন তাহলে আসতে। এছাড়া ভদ্রভাবে আচরণ করতে না পারলে চলে যেতে বলেছি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, আবেদনকারী হয়তো অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে অভিযোগটি এখনো আমার হাতে আসেনি।