সোমবার ৬ জুলাই ২০২৬ , (১১:১৯ PM) / ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম-দূনীতি

আল আজহার ইনস্টিটিউটের ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাত, অভিযোগ প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার   ঢাকা

০৬ জুলাই ২০২৬


অভিযুক্ত সাবেক প্রিন্সিপাল জিয়াউল হাসান।
অভিযুক্ত সাবেক প্রিন্সিপাল জিয়াউল হাসান। | ছবি: নয়া চাঁদ

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত আল আজহার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-এর সাবেক প্রিন্সিপাল জিয়াউল হাসান-এর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সহ আর্থিক অনিয়ম এবং হিসাব গোপনের অভিযোগে মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত আল আজহার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সাবেক প্রিন্সিপাল জিয়াউল হাসান নির্ধারিত বিনিয়োগের পরিবর্তে মাত্র ২ লাখ টাকা জমা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউল হাসানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তীতে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা-এর আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এ বিষয়ে বারবার হিসাব চাওয়া হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম এবং হিসাব বিভাগে স্বচ্ছতা না রাখার অভিযোগও রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সভায় তাকে হিসাব উপস্থাপনের জন্য সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তাকে ৭ দিনের মধ্যে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করা হয়নি। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। আইন অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিষয়টি তদন্তাধীন।